Ads

 গ্রীন কার্ড কি?



মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অথবা আমেরিকায় বৈধভাবে জীবন যাপন করার আগ্রহ পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি মানুষের মধ্যেই দেখা যায় আপনারা অনেকেই লক্ষ্য করলে বিষয়টি  দেখতে পারবেন । এদের মধ্যে অনেকের কাছে এই দেশটিকে কাল্পনিক রাজ্য অর্থাৎ স্বপ্নের দেশ বলে মনে হয় থাকে ।  আমাদের মধ্য থেকে এমন অনেককে খুঁজে পাওয়া যাবে যারা স্বপ্নেও স্বপ্নের রাজ্য আমেরিকায় ঘুরে আসে । একটু ভালো জীবন যাপন এবং উন্নত ভাবে চলাফেরার জন্য মানুষ বসবাস করার জন্য এই দেশটিকে বেছে থাকে । আর্থিকভাবে স্বয়ং সমৃদ্ধ এবং পৃথিবীর বুকে আমেরিকা ধনী দেশগুলোর মধ্যে সবার উপরে রয়েছে । দেশটির আর্থিক এবং ভৌগলিক অবস্থান অনেক উন্নত হওয়ার কারণে তাদের কাছে নাগরিকদের ভরণপোষণ এবং উন্নত জীবন যাপন করাতে কোন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় না । এই দিক দিয়েও দেশটির অবস্থান টপ ওয়ানে । ( Green Card in Bangla)


পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ গুলোর মধ্যে আমেরিকা একটি অন্যতম বৃহত্তম এবং উন্নত সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র । যার আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক কম । বিভিন্ন ধর্মের পাশাপাশি ভিন্ন ভাষার লোকের অবস্থান আমেরিকায় দেখা যাবে । এর মানে আমরা বুঝতে পারি পৃথিবীর প্রায় প্রতিটা দেশের মানুষ কমবেশি আমেরিকায় বসবাস করে থাকে । আর্থিকভাবে সফলতা এবং স্বাবলম্বী ভাবে জীবন কাটানোর জন্য প্রতিটা দেশের মানুষ বৈধভাবে আমেরিকার অবস্থান করে থাকে । কেবলমাত্র আর্থিক অবস্থা নয় শতকরা অথবা পার্সেন্টেজ এর কাছাকাছি রয়েছে তাদের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী । বেকারত্ব অথবা অশিক্ষিত জনগোষ্ঠী দেশটিকে কোন প্রভাব ফেলতে পারে না । আর্থিক অনুদান দিয়ে বিভিন্ন সময়ে দেশটি দরিদ্র দেশগুলোকে সাহায্য করে থাকে । আ্যপেল অথবা মাইক্রোসফট কোম্পানিগুলোর জন্মদাতা হলো আমেরিকা । (Dv lottery details in Bangla)


বিভিন্ন দেশের মানুষ আমেরিকা যাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে থাকে আর এই জন্য আমেরিকার সরকার কর্তৃপক্ষ ডিভি লটারির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর হাজারো হাজারো মানুষকে তাদের দেশে নিয়ে নাগরিকত্ব প্রদান করে থাকে এবং স্থায়ীভাবে বসবাস করার সুযোগ করে দেয় । প্রতি বছর আমরা ডিবি লটারির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষকে আমেরিকায় পাড়ি দিতে দেখে থাকি । বিভিন্ন দেশগুলো থেকে তাদের দেশে ডিভি লটারির মাধ্যমে লোক নেওয়ার পর তাদেরকে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে মৌলিক মানবাধিকারের আওতায় আনা হয় । একটি মানুষকে ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য যে পাঁচটি মৌলিক অধিকারের প্রয়োজন আমেরিকার সরকার তাদেরকে ঠিক সেই পাঁচটি মৌলিক অধিকার দিয়ে থাকে । যেহেতু তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেকটাই ভাল সেহেতু নাগরিকদের মৌলিক অধিকার পূরণ করতে তাদের কোন সমস্যাও নেই । (ডিভি লটারি কি?)


ডিভি লটারি কিভাবে পাবো? | ডিভি লটারি কি? | Green Card details in Bangla



ডিবি লটারি কি ?


আমেরিকার সরকার কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের তাদের দেশের বৈধভবে জীবন যাপনের জন্য বেশকিছু ভিসার নীতিমালা প্রদান করেছে । তাদের দেওয়া নীতিমালা তথ্য থেকে এটা জানা যায় যে 185 টি ভিসি মাধ্যমে তারা জনগণকে তাদের দেশে বৈধ পন্থায় যাওয়ার অনুমতি দিয়ে থাকে । আর সেগুলোর মধ্যে ডিভি লটারি একটি অন্যতম বৈধ রাস্তা আমেরিকা যাওয়ার জন্য । পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে আমেরিকা বসবাস করার আগ্রহ দেশটির পররাষ্ট্র কর্তৃপক্ষকে অনেকটা দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সফল
 হয়েছে । যার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দূতাবাস পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলো থেকে তাদের দেশের নাগরিক বানানোর জন্য ডিবি লটারির আয়োজন করে থাকে । সেজন্য আমরা আমেরিকান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রতিবছর ডিভি লটারির আয়োজন করে থাকতে দেখি । (ডিভি লটারি কিভাবে পাব)


ডিভি লটারির মাধ্যমে অন্য দেশের নাগরিকত্ব লাভ করা তাও আবার আমেরিকার কথা শুনে প্রায় অনেকেই ডিভি লটারিতে অংশগ্রহণ করে থাকে । বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের লটারিতে অংশগ্রহণ লাভ করলেও কেবলমাত্র লটারিতে বিজয়ীদেরকে আমেরিকা যাওয়ার জন্য ভিসা প্রদান করা হয়ে থাকে । ভিসার জন্য আপনাকে কিছু টাকা জমা দিতে হবে । ডিভি ভিসায় বিজয়ী হয়ে আপনি যখন আমেরিকায় প্রবেশ করবেন তখন আপনার মানবাধিকারের বাহক একমাত্র আমেরিকার সরকার । শুধুমাত্র মৌলিক অধিকার নয় আপনি পেয়ে যাবেন একজন নাগরিক হিসেবে বৈধভাবে আমেরিকা বসবাস করার সুযোগ । এই ভিসায় আমারা প্রতি বছর অনেক মানুষকেই আমেরিকায় বসবাস করতে দেখে থাকি । ডিভি ভিসা বাদে আমেরিকা বৈধভাবে বসবাস করার জন্য আরও অনেক ভিসা রয়েছে তবে সেগুলোর মধ্যে এই ভিসাটি গ্রহণযোগ্যতা সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটাই বেশি ।



গ্রীন কার্ড কি ?


গ্রীন কার্ড বা সবুজ কার্ডের মাধ্যমে আপনি যেকোন দেশের স্থায়ীভাবে বসবাস করার সুযোগ পাবেন । কোন দেশে যদি বৈধ পন্থায় স্থায়ীভাবে বসবাস করার কথা ভেবে থাকেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই প্রয়োজন হবে গ্রীন বা সবুজ কার্ডের । গ্রীন অথবা সবুজ কার্ডের মাধ্যমে আপনি যে দেশে থাকবেন সে দেশের নাগরিকদের মতো সুযোগ-সুবিধা পেয়ে যাবেন । জন্মসূত্রে একজন বাংলাদেশী হওয়ার পরেও আমেরিকায় যাওয়ার পরে আপনি যদি গ্রীন কার্ড করতে পারেন তাহলে আপনি একসাথে বাংলাদেশ এবং আমেরিকার দুই দেশের নাগরিকত্ব লাভ করতে সফল হবেন । এমনকি আপনি চাইলে আপনার পরিবারের সদস্যদেরকে আপনার অবস্থানরত দেশটিতে নিয়ে যেতে পারবেন । আপনি যে দেশে গ্রীন কার্ড করেছেন সে দেশের নাগরিকতা অর্জন করার জন্য গ্রীন কার্ড পাওয়ার 5 বছর পর আবেদন করতে হবে ।


ট্রাম্প শাসন বর্তমানে গ্রীন কার্ড এবং নাগরিকতা লাভ করার জন্য নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে । এই নিয়মের স্বাস্থ্যসেবা এবং উন্নত জীবনযাপন অথবা গ্রীনকার্ড পাওয়াটা অনেকটা কষ্টকর হয়ে যাবে । নতুন নিয়মে সরকার বলে রেখেছে নিজেদেরকে ভরণপোষণে সক্ষম এবং ভবিষ্যতে সরকারের উপর কোনো হস্তক্ষেপ ফেলা যাবে না এমন প্রমাণ দিতে পারলেই আপনাকে কেবল আমেরিকার থেকে গ্রীন কার্ড প্রদান করা হবে । তবে যারা এই নীতিমালার পূর্বেই গ্রীন কার্ড পেয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এই নীতিমালা প্রযোজ্য হবে না । অর্থাৎ সরকার কর্তৃক নতুন নিয়ম চালু হওয়ার পূর্বে যারা আমেরিকা থেকে গ্রীন কার্ড পেয়েছে তাদের জন্য নতুন এই নিয়মটি কোনো প্রভাব ফেলবে না । বিদেশে গ্রীন কার্ড অথবা সবুজ কার্ডটি হারিয়ে গেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে পুনরায় অনুমোদন করে কার্ডটি সংগ্রহ করে নিতে হবে । 



ডিভি লটারি আবেদন করার নিয়ম


আমেরিকান ডিভি লটারিতে আবেদন করার জন্য আপনার কোন সমস্যায় পড়তে হবে না কারণ এখানে ইংরেজি লেখার পাশাপাশি পাওয়া যাবে বাংলা লেখার সুবিধা । ফরম ফিলাপের জন্য আপনাকে অবশ্যই আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে । ফরম ফিলাপের জন্য আপনার এনআইডি মোতাবেক সঠিক তথ্য দিতে হবে । ফরম ফিলাপে যে তথ্যগুলো পূরণ করতে হবে সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক ।

১ / আগ্রহ কারীর ফুল নেম অর্থাৎ যিনি ডিভি লটারির জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন ।

২ / এপ্লাই দাতার বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা

৩ / ডিভি ভিসায় আগ্রহীর জন্ম সাল

৪ / জাতীয়তা

৫ / ধর্ম

৬ / ভাষা

৭ / মোবাইল নাম্বার

৮ / আবেদনকারীর ছবি

৯ / ইমেইল এড্রেস 

১০ / আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা


উপরের তথ্যগুলো ছাড়াও আরো বিভিন্ন তথ্য পূরণ করতে হতে পারে । ওয়েব সাইটে ফরম পূরণের কাজগুলোর যত দ্রুত সম্ভব সেড়ে নেওয়াই ভালো । এই তথ্যগুলো ছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিতে হতে পারে যে গুলো কে সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে । অনলাইন থেকে আবেদন করার পদ্ধতি সবসময়ই চালু থাকবে কেবলমাত্র পরবর্তীতে ফরম পূরণের বিষয়গুলো কোম্পানী কর্তৃক  মাধ্যমে চেঞ্জ হতে পারে । আবেদন করার নিয়ম সাকসেস হলে আপনার ইমেইল এড্রেসে আবেদনকারীর সম্পূর্ণ নাম এবং জন্ম সাল কনফার্মেশন তথ্যের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে ।



ডিভি লটারি কেন চালু করা হয়ে ছিলো ?


পৃথিবীর বুকে আমেরিকা একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ তাদের বৈচিত্র্যে মুগ্ধে আকর্ষিত হয়ে বিভিন্ন দেশের মানুষ সেখানে বসবাসের জন্য রওনা দিয়ে থাকে । আর এই জন্যই ইংলিশে এ দেশটিকে ড্রিম কান্ট্রি অর্থাৎ বাংলায় স্বপ্নের দেশ বলা হয়ে থাকে । 1987 সালে রোনাল্ড ব্লেগন প্রায় 2 মিলিয়ন মেক্সিকো বাসিকে স্থায়ীভাবে নাগরিকত্ব প্রদান করেছিল । এর মূল কারণ হলো দেশটির আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা একেবারেই কম । যার কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে লোক নিয়ে নাগরিকত্ব প্রদান করে নিজের দেশের জন্য জনশক্তি বাড়ানো । যাইহোক তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে  1987 সালে সর্বপ্রথম ডিভি লটারি নামক একটি ভিসা প্রদান করে থাকে যার মাধ্যমে মানুষ বৈধ পথে আমেরিকায় যেতে পারবে । 


আর এই জন্যই আমেরিকাতে আমরা বিভিন্ন ধর্ম , বর্ণ এবং জাতিগোষ্ঠীর লোকজনের বসবাস দেখতে পাই । ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম এবং জাতিগোষ্ঠীর বসবাস করার কারণে আমেরিকাকে একটি অধিবাসীদের দেশ বলা হয়ে 
থাকে । মেক্সিকো বাসীদের কে দিয়েই সর্বপ্রথম ডিবি ভিসার উদ্ভাবন করা হয়েছিল । 




কোন কোন দেশ থেকে গ্রীন কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে ?


কোন কোন দেশগুলো থেকে গ্রীন কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে এই সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র নির্ভর করবে আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যের উপরে । তারা যখন যে দেশগুলোকে নির্বাচন করবে ডিভি লটারিতে অংশ গ্রহণ করানোর জন্য  তখন সে দেশগুলোই ডিভি লটারিতে গ্রহণ করতে পারবে । তবে আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যগুলো সারা জীবনের জন্য নয় । ডিভি লটারি দেওয়ার পূর্বে তারা তাদের তথ্য পরিবর্তন করতে পারে । যেমন পূর্বে যদি তারা কোন দেশকে ডিভি লটারির আওতায় রেখে থাকে তাহলে পরবর্তী সময়ে সে দেশটিকে ডিভি লটারির আওতায় নাও রাখতে পারে । 


আবার পূর্বে যদি কোন দেশকে ডিভি লটারির আওতায় না রাখে তাহলে পরবর্তী সময়ে সেই দেশটিকে ডিভি লটারির আওতায় রাখতেও পারে । উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশকে কয়েক বছর আগে ডিবি লটারির আওতায় রাখলেও বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশকে ডিভি লটারির আওতায় রাখানি আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় । আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য হতে জানা যায় কমবেশি পৃথিবীর প্রতিটি দেশ থেকেই তাদের দেশে লোক নিয়ে নাগরিকত্ব দেওয়া । তারা তাদের মতামত পরিবর্তনের মাধ্যমে যেকোনো সময় যে কোন দেশ থেকে লোক নিতে পারে । 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন

Ads

Ads